বৃহস্পতিবার , জুলাই 19 2018

গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি – ঈদ স্পেশাল রেসিপি [ভিডিও]

আজ আমি আপনাদেরকে গরুর মাংস দিয়ে কিভাবে খিচুড়ি বানাতে হয় সেটা দেখাবো। তাহলে চলুন খিচুড়িতে মাংসটা রান্না করতে হলে কি কি উপকরন দরকার এক নজরে দেখে নেই।

==== কি কি উপকরণ দরকার ====

  • এখানে ১ কেজি পরিমান গরুর মাংস নিয়েছি। (দেখতে পাচ্ছেন খুব বেশি বড় টুকরা না। আবার খুব ছোটও না। মাঝারি সাইজের।)
  • হলুদ হাফ টেবিল চামুচ,
  • ধনিয়া গুড়া হাফ টেবিল চামুচ,
  • মরিচ গুড়া ১ টেবিল চামুচ,
  • জিরার গুড়া
  • হাফ টেবিল চামুচ
  • রসুন বাটা ১ টেবিল চামুচ,
  • আদা ১ টেবিল চামুচ,
  • গরম মসলার গুড়া ১ টেবিল চামুচ
  • লবন স্বাদ মত,
  • তেল পরিমান মত
  • পেয়াজ কুচি ১ কাপ ১
  • টা তেজ পাতা।

তাহলে চলুন খিচুড়িতে মাংসটা দেওয়ার জন্য কিভাবে ভুনা করতে হয় সেটা প্রথমে দেখে নেই।

আমার এই রেসিপিটির ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন।

===== রন্ধন প্রণালী =====

আমি একটা হাড়ি নিয়েছি। এখন এর মধ্যে আমি মাংসটা দিয়ে দিব। আমি এখানে গরুর মাংস ইউজ করেছি, আপনারা চাইলে যেকোনো ধরনের মাংস ইউজ করতে পারেন।

এখন আমি এর মধ্যে তেজ পাতা, একে একে মরিচ গুড়া, জিরা গুড়া, রসুন, আদা, গরম মসলা, লবন, ধনিয়া গুড়া এবং হলুদ দিয়ে দিচ্ছি। লবণটা একটু স্বাদ মত আপনারা দিবেন। একটু সাবধানে দিবেন। আমি এখানে আগে থেকেই লবণটা, পরিমান মত রেখেছি। সে জন্য সবটাই দিয়ে দিলাম।

এখন আমি তেল দিয়ে দিচ্ছি। তেল খুব বেশি ইউজ করবোনা। কারন অল্প তেলে রান্না করাটা শরীরের জন্য ভালো। এখন আমি এটা হাত দিয়ে সুন্দর করে মেখে নিচ্ছি। আমি এখানে ১ কেজি মাংস ইউজ করেছি, আপনারা চাইলে এর কম বাঁ বেশি মাংস ইউজ করতে পারেন। সুন্দর ভাবে মাখাতে হবে। যাতে মসলা গুলা প্রতিটা মাংসের সঙ্গে লেগে যায়।

এখন আমি এর মধ্যে পেয়াজ কুচি গুলো দিয়ে দিচ্ছি। অনেকে পেয়াজ কুচিটা পরে দিতে পছন্দ করে কিন্তু আমি আগে ভাগে দিয়ে দিছি। কারন এখন দিয়ে দিলে মাংসের সঙ্গে পেয়াজটাও সুন্দর ভাবে কষে যাবে। আবার আমি একটু মেখে দিচ্ছি। খুব সামান্য পরিমানে পানি অ্যাড করবো। কারন মাংস থেকে আমার এক্সট্রা পানিটা বের হয়ে আসবে।

আবার একটু মেখে দিচ্ছি। এখন আমি ঢাকনাটা দিয়ে দিচ্ছি। খুব মিডিয়াম আচে দিয়ে দিতে হবে। এভাবে আমি ২০ মিনিটের মত রান্না করবো। আর এর মধ্যে আপনারা ১/২ বার নেড়ে দিবান। এতে মাংসটা লেগে যাবে না। তাহলে ফিরে আসছি ২০ মিনিট পরেই।…

দেখতে পাচ্ছেন আমার মাংস থেকে খুব একটা পানি বের হয়নি। যদি দেখেন আপনাদের মাংস থেকে এক্সট্রা পানি বেশি বের হয়ে গেছে, তাহলে আপনারা ঢাকনাটা এরকম নামায় ফেলে মিডিয়াম আচে মাংসটা এভাবে নাড়া চারা করতে থাকবেন যাতে পানিটা তারাতারি শুকায় যায়। আর আমার যেহেতু এখান থেকে খুব বেশি একটা পানি বের হয়নি সো যে পানি টুকু আছে এখন পর্যন্ত এটাকে আমি আরও ১০ মিনিট ধরে সুন্দর ভাবে ভেজে নিব। অর্থাৎ পানিটা আরও শুকায় ফেলবো। তাহলে ফিরে আসছি ১০ মিনিট পরেই।…

আমার ১০ মিনিট হয়ে গেছে, দেখতে পাচ্ছেন মাংস গুলো অনেকটা ভাজা ভাজা হয়ে গেছে। মাংসটা অবশ্যই ভালো ভাবে কষে নিতে হবে। সঙ্গে যেহেতু পেয়াজটা আছে সেটাও সুন্দর ভাবে কষে যাবে মাংসর সঙ্গে। এখন আমি এর মধ্যে পানি দিয়ে দিচ্ছি মাংস গুলোকে আরও একটু সিদ্ধ হওয়ার জন্য। পানিটা খুব পরিমান মত। এখন আমি ঢাকনাটা দিয়ে দিব। ২০ মিনিট মিডিয়াম আচে আমি এটাকে রান্না করবো।…

আমি ২০ মিনিটের মাঝে ২ বার নেড়ে দিয়েছি। আর এর মধ্যে মাংসটা সিদ্ধ হয়েছে কি না সেটাও চেক করে নিয়েছি। আমার মাংসটা পুরোপুরি ভাবে সিদ্ধ হয়ে গেছে। আমার মাংসটা রান্না হয়ে গেছে খিচুড়িতে দেবার জন্য। এখন আমরা খিচুড়িটা রান্না করবো।

===== খিচুড়ি রান্না =====

খিচুড়ি রান্না করতে হলে প্রথমে কি কি উপকরন দরকার সেটা দেখে নেই।

  • বাসমতী চাল ৩ কাপের মত। (আপনারা চাইলে যেকোনো চাল ইউজ করতে পারেন।)
  • ১ কাপের মত পেয়াজ কুচি।
  • আস্ত জিরা হাফ টেবিল চামুচ।
  • মরিচ ৪ টি।
  • আদা বাটা ১ টেবিল চামুচ।
  • ১ টা তেজ পাতা।
  • ২ টার মত দারচিনি
  • ৪ টি এলাচ।
  • হলুদ হাফ টেবিল চামুচ,
  • মসুর ডাল ১ কাপ,
  • মুগ ডাল ১ কাপ,
  • তেল পরিমান মত আর
  • লবন স্বাদ মত।

প্রথমে আমরা মুগ ডালটাকে ভেজে নিব। মুগ ডালটা অল্প আচে সুন্দর ভাবে ভেজে নিতে হবে। দেখতে পাচ্ছেন আমার ডালটা সুন্দর ভাবে ভাজা হয়ে গেছে। কালারটাও পরিবর্তন হয়ে আসছে। এখন আমি ডালটাকে উঠায় ফেলবো।

আমি একটা হাড়ি নিয়েছি। এখন হাড়িতে আমি সামান্য একটু তেল দিয়ে দিব। ১ টেবিল চামুচের মত ঘি। এখন আমি এর মধ্যে তেজ পাতা, এলাচ, দারচিনি গুলো দিয়ে দিচ্ছি। তারপরে দিয়ে দিচ্ছি আস্ত জিরা। কাঁচা মরিচটা আমি ভেঙ্গে দিচ্ছি। এতে হবে কি মরিচ থেকে সুন্দর একটা ফ্লেভার বের হয়ে আসবে। সব গুলোকে আমি হাল্কা করে ভেজে নিব।

দেখতে পাচ্ছেন মসলা গুলোর বুদ বুদ শব্দ উঠেছে। এখন আমি এর মধ্যে পেয়াজ কুচি গুলো দিয়ে দিচ্ছি। জাস্ট একটু ব্রাউন কালার হওয়া পর্যন্ত আমরা এটাকে ভাজতে থাকবো। আমার পেয়াজের রঙ অনেকটা পরিবর্তন হয়ে আসছে। এখন আমি এর মধ্যে গুড়ো মসলাটা দিয়ে দিচ্ছি। পেয়াজের রঙটা যখনেই পরিবর্তন হয়ে আসবে ঠিক সেই সময়ে আমি চালটা দিয়ে দিচ্ছি।

এটাকে এখন আমি সুন্দর ভাবে নেড়ে দিব। উল্টিয়ে দিব, যাতে লেগে না যায়। আচটা অবশ্যই মিডিয়ামে থাকবে। এখন আমি এর মধ্যে আদার পেস্তটা দিয়ে দিচ্ছি। তারপরে দিয়ে দিচ্ছি হলুদ গুড়ো। হলুদ গুড়ো খুব বেশি ইউজ করবোনা কারন আগেই আমি মাংসের মধ্যে হলুদ দিয়ে ছিলাম। এখন আচটাকে আমি কমায় ফেলবো। সবশেষে আমি একটু লবন দিয়ে দিচ্ছি। এখানেও খুব বেশি লবন দেওয়ার প্রয়োজন নাই। কারন মাংসের মধ্যে আমি লবন ইউজ করেছি।এখন এটাকে আমি সুন্দর ভাবে ভেজে নিব। ফিরে আসছি ১৫ মিনিট পরেই।

চালটা ভাজা হয়েছে তখন বুঝবেন যখন চালটা এমন ঝরঝরা হয়ে যাবে। আর চালটার কালারও একটু পরিবর্তন হয়ে আসবে। তখনেই বুজতে পারবেন আসলে চালটা ভাজা হয়ে গেছে। তাছাড়া চালের একটা এক্সট্রা গন্ধ আছে যেটা ভাজার পরে বের হয়ে যায় আর সেই গন্ধটা সত্যি খুবিই সুন্দর। এখন আমি এর মধ্যে গরম পানি দিয়ে দিব।

আমি আগেই এখানে ১ কেজি চালের একটু কম ইউজ করে ছিলাম। বাট মুসুরের ডাল ও মুগ ডাল দেওয়ার পরে চালটা আমার ১ কেজির মত হয়ে গেছে। সে জন্য আমি এখানে ৯ পটের মত  গরম পানি দিয়ে দিব। চাল গুলো খুবিই সুন্দর ভাবে নেড়ে দিব। এখন আমি এটাকে এভাবে রেখে দিব। ১০/১৫ মিনিটের মত। জাস্ট চাল থেকে বুদ বুদের মত শব্দ হওয়া পর্যন্ত। আচটা অবশ্যই মিডিয়ামে দিয়ে রাখবেন। আর মাঝে মাঝে একটু নেড়ে দিবেন যাতে চালটা লাগে না যায়। তো ফিরে আসছি চালটা বুদ বুদ না হয়ে পর্যন্ত।

দেখতে পাচ্ছেন পানির বলক উঠে গেছে। ঠিক এই পর্যায়ে আমি দিয়ে দিচ্ছি আমার রান্না করা মাংস। এখন আমি এটাকে মিডিয়াম আচে রান্না করবো। জাস্ট পানিটা হাল্কা একটু শুকিয়ে আসলেই তখনেই আমরা ফিরে আসছি। এর মধ্যে অবশ্যই আপনারা ১/২ বার নেড়ে দিবান।

আমার খিচুড়ির পানিটা শুকিয়ে গেছে। এভাবেই থাকবে কোন নাড়া চারার দরকার নাই। ১০ মিনিটের মত আমি এটাকে রান্না করবো। খুবিই অল্প আচে। তাহলে ফিরে আসছি ১০ মিনিট পরেই।

আমার ১০ মিনিট হয়ে গেছে। এখন আমি ঢাকনাটা উঠায় ফেলবো। এখন আমি এর মধ্যে খুব সামান্য পরিমানে ধনে পাতা কুচি দিয়ে দিচ্ছি। আপনারা চাইলে আরও একটু বেশি ইউজ করতে পারেন। ২ টেবিল চামুচের মত ঘি দিয়ে দিব। এখন এটাকে আমি ভালো ভাবে মিশাব। খুবিই সুন্দর একটা ঘ্রান বের হয়েছে। ৫ মিনিটের জন্য আবারো এটাকে আমি দমে রেখে দিব।

এখন আমি এটাকে সুন্দর ভাবে পরিবেশন করবো।… তৈরি হয়ে গেলো গরুর মাংসের খিচুড়ি। আপনারা বাসায় অবশ্যই ট্রাই করবেন। একবার করে দেখেননা কেমন লাগে? I Hope আপনাদের খুবিই পছন্দ হবে। আজ এপর্যন্তই।

আমার কথা: আমি মুন্নি, আপনাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি – মুন্নি’স কিচেন ভিজিট করার জন্য (নিজে কিছু করার ইচ্ছে থেকেই এর যাত্রা শুরু)। যদি আমার রেসিপি ভালোলেগে থাকে, তাহলে অবশ্যই আমার ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করবেন (অনেক খুশী হবো), আর আমার জন্য দোয়া করবেন।

আমার ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে এখানে ক্লিক করুন।

Check Also

মজাদার মাশরুম ফ্রাই

ঘরে বসে ঝটপট তৈরি করে ফেলুন দারুন স্বাদের স্বাস্থ্যকর মাশরুম ফ্রাই

আমরা রোজার মাসে স্বাস্থ্যকর খাবার বেশি খেয়ে থাকি। তাই সেহরিতে স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে তৈরি করতে …

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।